বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ঘোষণা:

পড়ালেহা করতে পারলে আর বাদাম বেঁচতে আইতাম না।। 

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)।। কেউ যদি পড়ালেহা করাইতে হেলে আর বাদাম বেঁচতে আইতাম না। কথাগুলো বলেছেন কলাপাড়া উপজেলার পুরান মহিপুর এলাকার গ্রামের মো.রবিউল ইসলাম। নয় বছর বয়সের রবিউল এখনই পরিবারের হাল ধরেছেন। বাবা শহিদ সিকদার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। হাত এবং পা দুটোতেই শক্তি কম পান। তিনি নিজেও একজন বাদাম বিক্রেতা। দুই ভাইবোনের মধ্যে রবিউলই বড়। সে স্থানীয় মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। বিদ্যালয় খোলা থাকলে ক্লাস করেন এবং বাকি সময় বাবার বাদাম বিক্রিতে সাহায্য করেন।
একান্ত সাক্ষাৎকারে রবিউলের কাজে ভবিষ্যতে কি হবে জানতে চাইলে, সে বলেন বড় হয়ে আমি একজন বড় বাদাম ওয়ালা হতে চাই। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি কি আমারে পড়াইবেন? ছোট বোনটা ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আমারা বাদাম বেঁচা ছাড়া অন্য কিছু শিখি নাই। আমাদের কোন জায়গা জমি নাই। কুয়াকাটা থেকে পটুয়াখালী এবং বরিশালগামী বাসে বাদাম বিক্রি করি। এই টাকা দিয়ে আমরা চাল ডাল কিনে খাই। ঈদের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার কলাপাড়া পৌর শহরের ফেরিঘাট থেকে বাদাম বিক্রি করে ওয়াপদা অফিসের বিপরীতে নদীর পাড়ে পার্কের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল হক তার কাছ থেকে বাদাম কিনছিলেন। রবিউল জানান, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় শত টাকা বিক্রি করেন। এবং তাতে তার দুই শত টাকা লাভ হয়। বাদাম বিক্রির টাকা বাবার কাছে জমা দেয় রবিউল। তিনি জানিয়েছেন বাদাম বিক্রি করে দুইটি গরু কিনেছেন। বাদামের সাথে ছোলাবুট এবং মটোর ভাজা বিক্রি করেন তিনি। এবং প্রতিটি প্যাকেটের দাম রাখেন দশ টাকা করে।
রবিউলের বাবা শহিদ সিকদার জানান, আমি একজন প্রতিবন্ধী গরীব মানুষ আমরা। তাই ছেলেকে ঠিকমতো পড়ালেখা করাইতে পারিনা। ওর লেখাপড়া করার খুব ইচ্ছে। কিন্তু একা বাদাম বিক্রি করে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। তিনি আরও জানান, আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন। বাদাম বিক্রির পাশাপাশি ও যেন পড়ালেখা করতে পারে।
মহিপুর ইউপির দুই নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর সিরাজুল ইসলাম জানান, রবিউলকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি। তার বাবা একজন প্রতিবন্ধী। অভাবের কারণেই লেখাপড়ার পাশাপাশি বাদাম বিক্রি করে সে। আমি ইউপি সদস্য হওয়ার পরে পরিষদ থেকে যতটা সম্ভব ওদের পাশে থেকেছি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো.মিজানুর রহমান জানান, তার বাবা শহিদ সিকদার ইতিমধ্যেই সমাজ সেবা থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। পরবর্তীতে হুইল চেয়ার সহ প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ আসলে তার জন্য ব্যাবস্থা করা হবে। তিনি আরও জানান, উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আগামী অর্থবছরে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি বরাদ্দ আসলে রবিউলের জন্য অগ্রাধিকার দেয়া হবে।



ফেসবুকে আমাদের অনুসরণ করুন